এই পর্যটন স্থানগুলোর ছবি আপনি আপনার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতে পারবেন না!
আইফেল টাওয়ারের আলোকিত ছবি, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের চমৎকার দৃশ্য এবং অন্যান্য অনেক দর্শনীয় স্থানগুলোর প্রশংসিত ও দৃষ্টিনন্দন অনেক ছবিই তোলা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি বেশ সহজ মনে হলেও, ততোটা সহজ নাও হতে পারে। আজকের আয়োজনে জানবো এমন কিছু পর্যটক স্থান সম্পর্কে, যে স্থানগুলোর ছবি আপনি আপনার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতে পারবেন না। চলুন জেনে নেওয়া যাক-
কুমসুসান প্যালেস অফ সান
পিয়ংইয়ং শহরে দ্বিতীয় কিমের সমাধি কুমসুসান প্রাসাদ। কোনও কমিউনিস্ট নেতার এত বড় সমাধি পৃথিবীর আর কোথাও নেই। এই প্রাসাদ একইসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার উত্তর এবং পূর্ব দিকের বর্ডারের কাজ করে। উত্তর কোরিয়া কুমসুসান প্যালেস অফ সানে ছবি তোলা নিষেধ তো বটেই। এমনকি বেড়াতে গিয়ে গাইডের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও ছবি তুলতে পারবেন না। দক্ষিণ কোরিয়ায় নাগরিকদের হেঁটে যাওয়ার মতো সাধারণ ছবি তোলাও মারাত্মক অপরাধ!
আইফেল টাওয়ার
© Unsplash © Unsplash
আইফেল টাওয়ার ছবি তোলার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান। তবে, কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। বস্তুত, এটির রাতের আলোকসজ্জা এক ধরনের শিল্প এবং কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। সুতরাং, লিখিত অনুমতি ছাড়া টাওয়ারের ছবি শেয়ার করা নিষিদ্ধ। কিন্তু, আপনি যদি কোনও পেশাদার ফটোগ্রাফার হন এবং কেবল নিজের ব্যবহারের জন্য একটি ছবি তোলেন তবে আপনার অনুমতির নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
নিউসচোয়ানস্টেইন দুর্গ
© Unsplash
জার্মানির এই রোমান্টিক দুর্গের ছবি তোলা সহজ নয়। নিরাপত্তার কারণে, আপনাকে গাইডের সাথে ৩৫-মিনিটের সফরে কেবল দুর্গ দেখার অনুমতি দেওয়া হয় এবং ভিতরে ছবি এবং ভিডিও ধারণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়াও, আপনি দুর্গের ভেতরে বেবি স্ট্রলার ব ব্যাকপ্যাক নিতে পারবেন না।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন
© Pexels © Unsplash
পৃথিবীর গভীরতম ক্যানিয়নগুলোর মধ্যে অন্যতম গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে প্রতি বছর প্রায় ৪ মিলিয়ন মানুষ পরিদর্শন করতে আসেন। একটি গ্লাস সেতু থেকে চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করতে পর্যটকরা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের এই গিরিখাত দেখতে আসেন। এখানে আপনি ছবি তুলতে পারবেন নাঃ পর্যটকদের সাথে ক্যামেরা আনা নিষিদ্ধ। এছাড়াও, স্ক্র্যাচের হাত থেকে গ্লাস রক্ষায় বিশেষ জুতা পরতে হবে আপনাকে।
তাজমহল
© Unsplash
বিশ্বের আধুনিক বিস্ময়গুলোর মধ্যে একটি তাজমহলের বাইর থেকে আপনি যতো খুশি ততো ছবি তুলতে পারবেন। কিন্তু, ভেতরে ছবি তোলা নিষিদ্ধ। এছাড়াও, আপনি তাজমহলে খাওয়া-দাওয়া করা, জোরে শব্দ বা ধূমপান করতে পারবেন না এবং আপনার স্মার্টফোন বন্ধ বা সাইলেন্ট মুডে রাখতে হবে।
সিস্টিন চ্যাপেল
© ilfede / Depositphotos
শুধুমাত্র ধর্মীয় কোনও কারণে এখানে ছবি তোলা মানা তা নয়। জাপানের একটি নেটওয়ার্ক সংস্থা ২০ বছর ধরে সংরক্ষণের কাজ করছে এখানে। ছবি ও ভিডিও তোলার কপিরাইট শুধুমাত্র তাদের।
ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে
© Pixabay
উৎসাহীরা এখানে এসে ছবি তুললে শান্তি বিঘ্নিত হবে, এমনটাই মনে করেন গির্জা কর্তৃপক্ষ। তাই ছবি তোলা মানা। তবে গির্জার নিজের ওয়েবসাইট থেকে ছবি ডাউনলোড করা যাবে।
লেনিনের সমাধি
© Staron / Wikimedia
লেনিনের সমাধি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় ও বেশ আকর্ষণীয়। অনেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্যও এখানে ভিড় জমান। তবে, সমাধির ভেতরের অংশে পর্যটকদের লেনিনের সমাধির ছবি তোলার অনুমতি দেওয়া হয় না। যাই হোক, লেনিনের দেহ সংরক্ষণে যে ল্যাব কাজ করে, তা অন্যান্য দেশের অন্যান্য বিখ্যাত রাজনীতিবিদদের দেহ সংরক্ষণেও কাজ করে।
উলুরু-কাটা তাজুটা ন্যাশনাল পার্ক (Uluru and Kata-Tjuta National Park)
© gettyimages
অস্ট্রেলিয়ার এই জাতীয় উদ্যানের ছবি তোলা সবসময় অনুমোদিত নয়। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে (সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর পোস্ট সহ) ছবি তোলার জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন। তবে, আপনি যদি নিজের উদ্দেশ্যে কোনও ছবি তুলতে চান তবে মনে রাখবেন কিছু স্থানে ছবি তোলা উচিৎ নয় কারণ তারা সেসব স্থানকে পবিত্র বলে মনে করে। এমনকি এসব জায়গায় অংকন করাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
লাস ভেগাসের কিছু ক্যাসিনো
© Unsplash
নিরাপত্তার কারণে লাস ভেগাসের কিছু ক্যাসিনোতে ছবি তোলা নিষিদ্ধঃ সম্ভাব্য ডাকাতি রোধ করতে এবং পর্যটকদেরদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অতীতে, শহরের প্রায় সব ক্যাসিনোতে ছবি তোলা নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে, কিছু সীমাবদ্ধতাও তুলে নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অনেক পর্যটক চুরি করে এসব স্থানের ছবি তোলেন। এমনটা কোনভাবেই কাম্য নয়। এই বিষয়ে আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ...